অত্যন্ত বুদ্ধিমান সরীসৃপ, কুমির। এরা শিকারের জন্য অতর্কিত হামলা ও কৌশলের আশ্রয় নেয়। তাদের শিকার কৌশল হলো ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা এবং পানির নিচে থেকে দ্রুতগতিতে আক্রমণ করা। গবেষণায় দেখা গেছে, কুমির খুব দ্রুত শেখে এবং তথ্য মনে রাখতে পারে। প্রজনন ঋতুতে, এই ধূর্ত কুমির তাদের নাকের ডগা বা মাথার ওপরে ছোট ছোট ডালপালা সাজিয়ে রাখে। এরপর পানির নিচে প্রায় নিশ্চল থাকে। তখন শুধু ভাসমান ‘টোপ’ বা সরঞ্জামই দেখা যায়। যখন কোনো পাখি এই সহজলভ্য বাসা তৈরির উপকরণটি সংগ্রহ করতে নিচে নামে, তখনই কুমির অতর্কিত আক্রমণে তাকে শিকার করে। শিকারকে তারা চিবিয়ে খায় না। কারণ কুমিরের পেটে থাকা পাথরগুলো অনেকটা শিল-পাটার কাজ করে। এরা ৩০ থেকে ৪০ বছর বাঁচে। তবে লবণ পানির কুমিরকে ৬০ থেকে ৭০ বছরও বাঁচতে দেখা যায়। এরা লম্বা হতে পারে ২০ ফুটের বেশি। ওজন হতে পারে এক টন। কুমিররা অন্ধকারে বেশ ভালো দেখতে পারে। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিরের প্রজনন মৌসুম। এ সময় তারা আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় থাকে। যদি কোনো কুমির আপনাকে ধরে ফেলে, তখনই প্রতিরোধ করতে হবে। বাস্তবতা হলো, একবার যদি কুমির তার চোয়ালে কাউকে ধরে ফেলে, তখন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।