খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফেসবুকজুড়ে শোকের ছায়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে একে একে শোকবার্তা আসতে থাকে। অনেকেই তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করছেন।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান লেখেন, একজন নারী হিসেবে এই দীর্ঘ কঠিন পথ পাড়ি দিতে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, সেটা সবার অজানাই রয়ে গেল। তার দৃঢ়তাকে সম্মান জানাই।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ খালেদা জিয়া ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নুর তুষার লিখেছেন, নিশ্চিতরূপে আমরা সকলেই আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করবো। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম লেখেন, তিনি এই দেশ ও মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। বাংলাদেশে তার চেয়ে বড় রাজনীতিবিদ জন্মায় নাই। খালেদা আমাদের লোক ছিলেন।

সাংবাদিক সিয়াম সারওয়ার জামিল বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তার শৈশব-কৈশোরের সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। একজন গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়। তাকে ঘিরে বিতর্ক ছিল, কিন্তু ইতিহাসে তার অবস্থান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আজ এটা শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, একটি সময়ের অবসান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, রাজনীতিবিদদের সম্মান করতে পারলে দেশ এগিয়ে যেত। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে সম্মান করতাম। ১/১১-এর পর থেকে তার প্রতি সম্মান বেড়েছে। জীবনসায়াহ্নে তিনি আমারও শ্রদ্ধার মানুষ হয়েছিলেন।

উন্নয়ন কর্মী আমিনুল সজল বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশের সংকটময় মুহূর্তে তিনি চলে গেলেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান অনেক।

গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে, বিশেষ করে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার লড়াকু ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় থাকবেন।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী বলেন, আমাদের বিয়েতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। রাতের খাবারের সময় কথোপকথন অনায়াস মনে হয়েছিল। প্রথমবার জানলাম ‘নারকেল বড়ই’ ফলের অন্য নাম। বিধবা হয়ে ত্রিশের দশকে প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তার যাত্রা অসাধারণ। তার ব্যক্তিগত দৃঢ়তার জন্য তিনি সর্বজনীন শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।