জবির শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে তালাবদ্ধ

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বহিষ্কারের আল্টিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিতকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে তালাবদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সকালে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে জকসু নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়। সিন্ডিকেটের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে নির্বাচন স্থগিতের পেছনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিনকে দায়ী করে একাংশ শিক্ষার্থী।

সকাল ৬টার দিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে জকসু নির্বাচন ২০২৫ স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্বাচন চালু রাখার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত, কিন্তু সেই কারণে জকসু নির্বাচন কেন স্থগিত হবে? এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী-বান্ধব নয়।’

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরসহ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিনকে নির্বাচন স্থগিতের জন্য দায়ী করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজ বিভাগে অবস্থানকালে তাকে তালাবদ্ধ করা হয় এবং অশ্রাব্য স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন সেখানে গেলে তাকেও ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। উপাচার্য সকালে জানান ৮টা ৩০ মিনিটে সিন্ডিকেট সভা হবে এবং আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। আমি নির্ধারিত সময়ের আগেই সভায় উপস্থিত হই। সভায় আমি কোনো বক্তব্য রাখিনি। তবুও আমাকে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বিভাগে গিয়ে তালাবদ্ধ করা হয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এটি একজন শিক্ষককে অপমান করার শামিল। আমার ওপর মব সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি নিছক জুলুম।’

অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার প্রশাসনের রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বহিষ্কার করা না হলে শিক্ষকরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।’

ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।