ডিসেম্বরের শুরুতে অ্যাস্টন ভিলার কাছে হারের পর আর্সেনালের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। উলভস, এভারটন ও ব্রাইটনের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে জয় পেলেও তাদের পারফর্মেন্সে প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখা যায়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফল আদায় করে নিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে তারা। এই আবহে মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে ৪-১ গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়েছে আর্সেনাল। এতে দলটির প্রতি প্রত্যাশা বেড়েছে সমর্থকদের।
দারুণ এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও শক্ত বার্তা দিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। এই জয়ের ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে এবং লিগের দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল শীর্ষস্থানেই থাকছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তারা এগিয়ে ৫ পয়েন্টে, আর ভিলা আছে আরও এক পয়েন্ট পিছিয়ে। সাবেক ভিলা স্ট্রাইকার ডিয়ন ডাবলিনের মতে, আর্সেনালের কোচ থেকে শুরু করে খেলোয়াড় ও স্টাফ সবাই যেভাবে অবদান রাখছে, তাতে মনে হচ্ছে সব কিছুই যেন তাদের পক্ষে যাচ্ছে।
ম্যাচ অব দ্য ডে অনুষ্ঠানে সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফিও বলেন, এটি ছিল আর্সেনালের শক্তিমত্তার বড় প্রদর্শনী। মান, শক্তি ও বেঞ্চের গভীরতা—সবই স্পষ্ট হয়েছে এই ম্যাচে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা আর্সেনাল সমর্থকদের কিছুটা সতর্ক থাকার শিক্ষা দিয়েছে। টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত শিরোপা অধরা থেকে গেছে। ২০০৪ সালের পর থেকে আর লিগ জেতা হয়নি।
এর আগেও এমন পরিস্থিতিতে ছিল আর্সেনাল। ২০২৩ সালের শুরুতে তারা ছিল শীর্ষে, ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠেছে পেপ গার্দিওলার হাতে। একই ঘটনা ঘটেছিল ২০০২–০৩ মৌসুমেও। পরিসংখ্যান বলছে, আগের ছয়বার ক্যালেন্ডার বছরের শেষে শীর্ষে থেকেও মাত্র একবার লিগ জিততে পেরেছে আর্সেনাল। তাই স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা আছে।
সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাগার মনে করেন, এখনই নার্ভাস হওয়ার সময় নয়। তার মতে, আসল চাপ আসে এপ্রিল ও মে মাসে, এখনও অনেক পথ বাকি। অন্যদিকে কোচ মিকেল আর্তেতা জানিয়েছেন, দল জানে সামনে পথ কতটা দীর্ঘ। দুই হাজার পঁচিশ সাল দারুণ কেটেছে, তবে দুই হাজার ছাব্বিশ সালে তারা কী চায় সেটাও পরিষ্কার। সেটি অর্জন করতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে সেন্টার ব্যাকে খেলেছেন গ্যাব্রিয়েল ও উইলিয়াম সালিবা। তাদের উপস্থিতিতে প্রথমার্ধে দৃঢ় রক্ষণ গড়ে তোলে আর্সেনাল। বিরতির পর গ্যাব্রিয়েলের গোলেই ভাঙে জট, এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ড্যানি মারফির মতে, এই জুটি আর্সেনালকে আত্মবিশ্বাস জোগায় এবং প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের আবহ তৈরি করে। নিবিড় এবং শক্তিশালী রক্ষণই ভিলার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের ভিত্তি গড়েছিল।
সব মিলিয়ে ভিলার বিপক্ষে এই জয় আর্সেনালের জন্য নানা দিক থেকেই বড় অর্জন। তবে আর্তেতার ভাষায়, এখনও পথ অনেক বাকি। ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা দুদলই পেছন থেকে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সিটির কাছে সুযোগ আছে ব্যবধান কমানোর, আর ভিলাও চাইবে এই হারকে সাময়িক ধাক্কা হিসেবে পেছনে ফেলতে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, এবার কি শেষ পর্যন্ত শিরোপার হিসাবটা মিলাতে পারবে গানাররা।