রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি '৯০ শতাংশ প্রস্তুত' : জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি প্রায় '৯০ শতাংশ প্রস্তুত'। তবে বাকি অংশই ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন শান্তি চায়, তবে যে কোনো মূল্যে নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।

জেলেনস্কি জানান, পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া হলে কার্যত ইউক্রেনের অস্তিত্বই শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে রাশিয়া ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ডনবাসের ভবিষ্যৎই শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে, কারণ মস্কো পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণের দাবিতে অনড়।

অন্যদিকে রাশিয়ার অবস্থান ছিল কড়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া নববর্ষের ভাষণে ‘বিজয়ে বিশ্বাস’ রাখার কথা বলেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিন দাবি করে, ইউক্রেন পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে—যা কিয়েভ অস্বীকার করেছে এবং যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। রাশিয়া জানায়, এ ঘটনার প্রভাব শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থানের ওপর পড়তে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস এই অভিযোগকে শান্তি প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার একটি বিভ্রান্তিকর কৌশল বলে মন্তব্য করেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্বল চুক্তি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে। এদিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আগামী ৬ জানুয়ারি প্যারিসে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চললেও, যে কোনো শান্তিচুক্তির জন্য রাশিয়ার সম্মতি অপরিহার্য, যা বর্তমানে অনিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে।