জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতারের

আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অযোগ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আইনের প্যাঁচ দিয়ে নানাভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পূনর্বাসনের নানা ধরনের চক্রান্ত হতে পারে। আমরা কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের রাজনীতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন দেখতে চাই না।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রংপুর-৪ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গত ১৬ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছিল, যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তা এক দিনে তৈরি হয়নি বা একা তৈরি হয়নি। এই স্বৈরাচার তৈরি করেছে, বৈধতা দিয়েছে, টিকিয়ে রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে জাতীয় পার্টি। স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদীদের বৈধতা যারা দিয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, এমন দাবি নিয়ে সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে প্রার্থী, তাদের সহকারী এবং জনগণ যেন শতভাগ নিরাপত্তা পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। আখতার হোসেন বলেন, বিগত সময়ে নির্বাচনী মাঠ বড় অসমতল দেখেছি। এবারও আমরা তাই দেখছি। অনেকে অর্থের ছড়াছড়ি করে, অনেকে পেশীশক্তির জোর দেখিয়ে নির্বাচন পাড়ি দিতে চান। অর্থের জোর, পেশীশক্তির জোর বা প্রশাসনের ভেতরে থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

তিনি তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, তফসিলের আগে দেখেছি কিভাবে মানুষকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। দিনে-দুপুরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। যদিও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন একটি উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আখতার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে যারা জনগণের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে, মানুষকে পিটিয়ে মেরেছে তারা এখনও ঘাপটি মেরে রয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, বিচারের আওতায় আনতে পারে নি। তাই ওসমান হাদির মতো পরিণতি হওয়ার আশঙ্কা বিরাজমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হোক, প্রার্থীরা বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চলাফেরা করুক না কেন, যদি অপরাধীরা রাস্তায় ঘুরঘুর করে, তাদের গ্রেপ্তার করা না হয় তবে কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, আমরা বুলেট ভয় পাইনি, আমার ভাইয়েরা জীবন দিয়েছে। আমরা তাদের পথে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তবে সরকারের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচারকে দৃশ্যমান করা এবং দুর্নীতিমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত দেশ গড়ার স্বার্থে আট দলীয় জোট একত্রে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সেই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পাড়ি দিতে চাই। তিনি জানান, এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের আসন নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, সংগঠক আলমগীর নয়নসহ অন্যরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আখতার হোসেন। জোটগত আসন সমঝোতার কারণে তাকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজম খান। এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছয়বার, জাতীয় পার্টি চারবার এবং বিএনপি একবার জয় পেয়েছে।

রংপুর-৪ আসনে দাখিল করা ১০ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন: স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) মো. আব্দুস ছালাম।

এ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।