নারায়ণগঞ্জে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন, বাতিল ১৬

নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত ৫৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩৭ টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র। স্থগিত করা হয়েছে ৪ জনের মনোনয়নপত্র। 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাচাই বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এসব তথ্য জানান। শনিবার বিকেলে স্থগিত প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের বৈধ ও ২ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়।  নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ দুলালের ১ শতাংশ ভোটারের সাক্ষর সঠিক না থাকায় এবং মনিরুজ্জামান চন্দন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) এর হলফনামায় সাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু (বিএনপি), আনোয়ার হোসেন মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. ইমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রেহান আফজাল (বাংলাদেশ ইনসানিয়াত বিপ্লব), ওয়াসিম উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ) এবং আব্দুল কাইয়ুম শিকদার (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
 
নারায়ণগঞ্জ -২ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩টি বৈধ ও ৩ টা স্থগিত আর ৪টি বাতিল করা হয়েছে। অত্র আসনে আবু হানিফ হৃদয় (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি) ঋণখেলাপী, মিনহাজুর রহমান (স্বতন্ত্র), আব্দুল আউয়াল (স্বতন্ত্র) ১ শতাংশ ভোটার সঠিক না থাকায় এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ’র হলফনামার তথ্য সঠিক না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও মো. ইলিয়াস মোল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (স্বতন্ত্র), মো. হাফিজুল ইসলাম (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) এর আয়কর বকেয়া থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। অত্র আসনে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদ (বিএনপি), আবুল কালাম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), কামরুল মিয়া (গণঅধিকার পরিষদ)।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মোট ১১ জনের মধ্যে অত্র আসনের সাবেক এমপি  অধ্যাপক রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র) এর হলফনামার তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন

আজহারুল ইসলাম মান্নান (বিএনপি), গোলাম মসীহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী (গণঅধিকার পরিষদ), আতিকুর রহমান মুন্সী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), মুহা. শাহাজান (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), আব্দুল করিম মুন্সী (জনতার দল), ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), আরিফুল ইসলাম (আমার বাংলাদেশ পার্টি), মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র), এবং অঞ্জন দাশ (গণসংহতি আন্দোলন)।  

নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন বৈধ ও  ৫ জন বাতিল ও ১ জন স্থগিত করা হয়েছে। অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে আরিফ ভূঁইয়া (গণঅধিকার পরিষদ),১ শতাংশ ভোটার সঠিক না থাকায় ফাতেমা মনির (স্বতন্ত্র), তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় ছালাউদ্দিন খোকা (জাতীয় পার্টি), অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে ইকবাল হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও মো. সেলিম আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি এর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও বিল বকেয়া থাকায়  মোহাম্মদ আলী (বাংলাদেশ রিপাবলিকেশন পার্টি) এর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন. শাহা আলম (স্বতন্ত্র), মো. ইলিয়াস আহাম্মেদ (খেলাফত মজলিস),  সেলিম মাহমুদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), আনোয়ার হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), ইসমাঈল হোসেন কাউছার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল্লাহ আল আমিন (এনসিপি), মনির হোসাইন কাশেমী (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ), মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র), সুলায়মান দেওয়ান (বাংলাদেশ জাসদ)।

নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। মাকসুদ হোসেন (স্বতন্ত্র) হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায়, দলীয় মনোনয়ন না থাকায় আবু জাফর আহমদ বাবুল (বিএনপি) ও  আবু জাফর আহমদ বাবুল (বিএনপি এবং হলফনামায় অসম্পূর্ণ থাকায় নাহিদ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ) এর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, আবুল কালাম (বিএনপি), এবিএম সিরাজুল ইসলাম মামুন (খেলাফত মজলিস), আবু নাঈম খান বিপ্লব (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মাওলানা মাসুম বিল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা (মুক্তিজোট),  সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ), মন্টু চন্দ্র ঘোষ (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি),  তরিকুল ইসলাম (গণসংহতি আন্দোলন), অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান (বিএনপি)।

ডিসি রায়হান কবির আরো জানান, ‘প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এর সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হলে তার কারণও প্রকাশ্যে জানানো হবে।’ তবে, মনোনয়নপত্র বাতিল হলে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আপিলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে পর্যন্ত যাবার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান এ নির্বাচন কর্মকর্তা।

কমিশনে আপিল করা যাবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবার পর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা এবং প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের বিপরীতে ৯৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে ৫৭টি জমা পড়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।