সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে আলুর দাম বেড়ে দ্বিগুন

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের অজুহাতে একসপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে আলুর দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। সরবরাহ কমের কারনেই দাম ঊর্ধ্বমুখী, এমনটাই মনে করছে বিক্রেতারা। আবহাওয়া ভালো হলে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দাম কমে আসবে বলে দাবী তাদের।

শনিবার (১ জানুয়ারী) সরজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের প্রতিটি দোকানেই আলুর যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। এরপরেও আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। একসপ্তাহ পুর্বে প্রতি কেজি নতুন লাল আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৪০ টাকা আর সাদা আলু ১৫টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৩০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে সব ধরণের আলুর দাম বেড়েছে। যার কারণে বিপাকে ক্রেতারা।

হিলি বাজারে আলু কিনতে আসা নাজমা বেগম বলেন, আলু এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যা তিন বেলাতেই রান্নাতে কাজে লাগে। আমার কাছে আলুর বিকল্প কোন কিছু নেই। নতুন আলু উঠার ফলে বাজারে আলুর দাম অনেক কম ছিল। প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল এতে করে আমরা যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য ভালোই ছিল। দাম বাড়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। 

আরেক ক্রেতা হায়দার আলী বলেন, মানুষ যে একটু ভর্তা ভাত খাবে সেই উপায় থাকছেনা। যে আলু আমরা একসপ্তাহ পুর্বেও কিনলাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে সেই আলু আমাদের এখন কিনতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। আলুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যা আমাদের মত গরীব মানুষদের জন্য কষ্টের। আমাদের তো আয় রোজগার সীমিত হঠাৎ করে দাম বাড়ায় আমরা তো সেই চাহিদামত কিনতে পারছিনা। 

হিলি বাজারের আলু বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশীয় নতুন আলু উঠতে শুরু করায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছিল কিন্তু এখন মোকামেই আলুর দাম বেশি, যার কারনে বাজারেও দাম বেড়েছে। এসময় তিনি বৈরি আবহাওয়াকেও দাম বাড়ার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশা বিরাজ করছে। এর ফলে কৃষকরা ক্ষেত থেকে আলু তুলতে পারছেন না। যার কারনে সরবরাহ কমে দাম বেড়ে গেছে।  সরবরাহ বাড়লে আলুর দাম কমে আসবে বলেও জানালেন এ ব্যবসায়ী।