গাজীপুর-২

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (সদর-টঙ্গী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে গাজীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়ে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন সাবেক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী মরহুম অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মনজুরুল করিম রনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়ন বাছাই করেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন। দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা ও সবচেয়ে বেশী ভোটারের এ আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। বাছাইকালে তাদের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনটি গাজীপুর মহানগরীর ১৯ থেকে ৩৯ নম্বর এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা নিয়ে গঠিত। মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি এ আসনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৪০১ জন, নারী ভোটার ৪ লাখ ৯১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন জনসংখ্যার ভিত্তিতে গাজীপুরে একটি সংসদীয় আসন বাড়িয়ে টঙ্গী-পূবাইলের কিছু অংশ নিয়ে নতুন গাজীপুর-৬ একটি সংসদীয় আসন ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণার পর টঙ্গী এলাকার বিএনপি নেতারা নতুন গাজীপুর-৬ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের আশায় গণসংযোগ শুরু করে। তার মধ্যে সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার পরিবার থেকে তার ভাই-ভাতিজাসহ একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চেয়ে প্রচার চালান। বিএনপি সারা দেশে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণাকালে গাজীপুর-২ আসনে সাবেক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মনজুরুল করিম রনিকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তখন গাজীপুর-৬ আসনে কোন দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। অপরদিকে, গাজীপুর-৬ আসন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হলে আদালত নতুন ঘোষিত গাজীপুর-৬ আসনটি বাতিল ঘোষণা করে।

এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন গাজীপুর-৬ আসনের এলাকাটি গাজীপুর-২ আসনের সাথে যুক্ত করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তারপর থেকে গাজীপুর-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিশেষত হাসান উদ্দিন সরকারের সমর্থকরা মনোনয়ন দাবীতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে। সর্বশেষ এ পরিবারের সালাহউদ্দিন সরকার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দেন। যা শনিবার বাছাইকালে বাতিল করা হয়।