ভুয়া কাগজপত্রে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯০৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহাম্মদ ও ব্লু সাকসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জালাল খান মজলিশসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুদকের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখা থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন নেয়। পরে অনুমোদন করা অর্থ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিং চেকের মাধ্যমে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করে, যা সুদাসলে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয় কমিশন। দুদকের উপপরিচালক জিএম আহসানুল কবীর বাদী হয়ে মামলাটি করবেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হবে, তারা হলেন ব্লু সাকসেস লিমিটেডের এমডি আহমেদ জালাল খান মজলিশ, পরিচালক খাদিজা আক্তার, ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান, ব্যাংকটির গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আরীফ মো. শহীদুল হক, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ ওয়াদুদ, সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি এএসএম বুলবুল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু রাশেদ নওয়াব, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মনোয়ারা হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার, রন হক সিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, খলিলুর রহমান, মাবরুব হোসেন, নেত্রকোনা নিউ টাউনের বাসিন্দা কৌশিক কান্তি প-িত, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এমডি সালাহ উদ্দীন খান মজলিশ, পরিচালক আব্দুর রউফ, বেঙ্গল ও অ্যান্ড এম সার্ভিসের মালিক জন হক সিকদার, মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের মালিক সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম, সিকোটেক হোল্ডিংসের মালিক মো. মাহফুজুর রহমান, পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, টেক ইন্টেলিজেন্সের মালিক মো. জামিল হোসাইন মজুমদার, এসএম কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপের মালিক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, জুপিটার বিজনেস লিমিটেডের মালিক মমতাজুর রহমান, পরিচালক মোসফেকুর রহমান এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পর্যবেক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ।