দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে। প্রতিদিন হাজারো রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালটির অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা চরম সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় অতি পুরোনো ভবনগুলো দ্রুত অপসারণ করে আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালটি বর্তমানে ১৩০ শয্যা বিশিষ্ট। এর মধ্যে ১০ শয্যার একটি আইসিইউ চালু রয়েছে। হাসপাতালটির মোট জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫৩৩০ একর। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রাণকেন্দ্রে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিকটবর্তী হওয়ায় বৃহত্তর কুমিল্লার পাশাপাশি চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
প্রতিদিন হাসপাতালটির বহির্বিভাগে গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। গতবারের সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালটির বেড অকুপেন্সি রেট ছিল ১০৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীচাপের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। অথচ হাসপাতালের অধিকাংশ ভবন দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো হওয়ায় কক্ষের আয়তন অপ্রতুল এবং চিকিৎসা পরিবেশ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
গণপূর্ত ডিজাইন ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক পরিদর্শনের পর দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিইউ ভবন ও নবাব ফয়জুন্নেছা ওখান ভবন ছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য ভবনের দেয়াল ও ছাদের নির্মাণ-সামগ্রীর শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এসব ভবনে কম্প্রেসিভ স্ট্রেংথ টেস্ট বা রেট্রোফিটিং প্রযুক্তি প্রয়োগ কার্যকর হবে না। ফলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন বহুতল ভবন নির্মাণই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. হাসান মাহমুদ ইকবাল বলেন, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পুরোনো ভবনগুলো চিকিৎসাসেবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণ হলে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল করিম খন্দকার বলেন, নতুন ভবন হলে হাসপাতালের জনবল কাঠামো আরও কার্যকর হবে। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও মানসম্মত হবে।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ জেলা হাসপাতাল অত্যন্ত জরুরি। পুরোনো ভবনগুলো যে কোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনগণের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন।