জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষ থেকে গত রবিবার রাতে ২১ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থী ফজলে আজওয়াদ। তাকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) স্বাক্ষরিত এ অফিস আদেশে এ শাস্তির কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে মাদকদ্রব্য রয়েছেÑ এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হল প্রশাসন। এ সময় হল সংসদের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে বিছানার নিচ থেকে মোট ২১ বোতল মদ জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এসব মাদকদ্রব্য জামালপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে স্বীকার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রবিবার রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষের লকার ও খাটের নিচ থেকে ২০ বোতল বিদেশি মদসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলো।
মদের বোতল জব্দ করার পর ওই হলের শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত আজওয়াদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন। তবে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করলেও অভিযুক্ত ছাত্রদলের কর্মী নন বলে দাবি করেছে শাখা ছাত্রদল।
রবিবার রাতে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ফজলে আজওয়াদ নামে একজন শিক্ষার্থীকে ২১ বোতল মদের বোতলসহ আটক করা হয়েছে। আটকের পর থেকেই কিছু সংবাদমাধ্যমে আজওয়াদকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার। আটক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কর্মী বা পদধারী নন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল হল পর্যায়ে সবার জন্য উন্মুক্ত প্যানেল গঠন করেছিল, যেখানে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ছাত্রদলের এ ধরনের উদার মনোভাবের লক্ষ্য ছিল ছাত্ররাজনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।