শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের বিধান ও ইবাদত

পৌষের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। চলমান শীতের অনেকের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং তাদের পাশে থাকার শিক্ষা রয়েছে ইসলামে।

কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, সহায়-সম্বলহীন মানুষের কষ্ট লাঘব করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সামর্থ্যবান মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। অন্তত পুরনো পোশাক দিয়ে হলেও শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন মহানবী (স.)। পাশাপাশি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।

‘সূরা কসাস’র ৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

 وَ ابۡتَغِ فِیۡمَاۤ اٰتٰىكَ اللّٰهُ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ وَ لَا تَنۡسَ نَصِیۡبَكَ مِنَ الدُّنۡیَا وَ اَحۡسِنۡ كَمَاۤ اَحۡسَنَ اللّٰهُ اِلَیۡكَ وَ لَا تَبۡغِ الۡفَسَادَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ﴿۷۷﴾

তোমরা মানুষের প্রতি তেমন অনুগ্রহ করো (সাদক্বাহ বা যে কোনো উপায়ে), যেমন আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।

সুরা নূর- ৩৩ নম্বর আয়াতে আছে,

وَ لۡیَسۡتَعۡفِفِ الَّذِیۡنَ لَا یَجِدُوۡنَ نِكَاحًا حَتّٰی یُغۡنِیَهُمُ اللّٰهُ مِنۡ فَضۡلِهٖ ؕ وَ الَّذِیۡنَ یَبۡتَغُوۡنَ الۡكِتٰبَ مِمَّا مَلَكَتۡ اَیۡمَانُكُمۡ فَكَاتِبُوۡهُمۡ اِنۡ عَلِمۡتُمۡ فِیۡهِمۡ خَیۡرًا ٭ۖ وَّ اٰتُوۡهُمۡ مِّنۡ مَّالِ اللّٰهِ الَّذِیۡۤ اٰتٰىكُمۡ ؕ وَ لَا تُكۡرِهُوۡا فَتَیٰتِكُمۡ عَلَی الۡبِغَآءِ اِنۡ اَرَدۡنَ تَحَصُّنًا لِّتَبۡتَغُوۡا عَرَضَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَ مَنۡ یُّكۡرِهۡهُّنَّ فَاِنَّ اللّٰهَ مِنۡۢ بَعۡدِ اِكۡرَاهِهِنَّ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۳۳﴾

 ‘তোমরা তাদের দান করো আল্লাহর সেই সম্পদ থেকে, যে সম্পদ আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন।’

হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

باب رَحْمَتِهِ صلى الله عليه وسلم الصِّبْيَانَ وَالْعِيَالَ وَتَوَاضُعِهِ وَفَضْلِ ذَلِكَ ‏‏

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، وَأَبِي، ظِبْيَانَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ لاَ يَرْحَمِ النَّاسَ لاَ يَرْحَمْهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ

‘যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।’ (মুসলিম-২৩১৯)।

‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুসিবতগুলো দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহ তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন এবং আল্লাহ বান্দাকে সাহায্য করবেন, যদি বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করে।’ (মুসলিম)।

অসহায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো নবজির আদর্শ। কারণ খেদমতে খালক্ব বা সৃষ্টির সেবা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান ও ইবাদত। এ ব্যাপারে ত্রুটি হলে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। প্রশ্ন করা হবে, বস্ত্রহীনদের বস্ত্রদান ও ক্ষুধার্তদের খাদ্যদান সম্পর্কে।

তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ, দলমত-নির্বিশেষে সমাজের ধনাঢ্য ও বিত্তবান ব্যক্তিদের শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে।

নবি করিম (সা.) মানুষকে অন্ন ও বস্ত্রদানের পরকালীন পুরস্কারপ্রাপ্তির কথা বলেছেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করলে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো তৃষ্ণার্ত মুসলমানকে পানি পান করালে মহান আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানীয় পান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

আলোচিত কুরআন-হাদিসের এসব নির্দেশনা মেনে চললে মানব জাতির জন্যই কল্যাণ রয়েছে। যেহেতু ‘প্রত্যেক মুসলমান ভাই-ভাই’।