বাবার নাম জিনেদিন জিদান। তাই ছেলের প্রতি প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান প্রমাণ করছেন, তিনি শুধুই কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে নন, নিজস্ব পরিচয় গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ২৭ বছর বয়সী এই গোলকিপার চলতি আফ্রিকা কাপে এখন পর্যন্ত গোল হজম করেননি।
আলজেরিয়ার প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন লুকা। দুটি ম্যাচেই তিনি ক্লিনশিট রেখেছেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্রামে থাকলেও মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে কঙ্গোর বিপক্ষে আবারও আলজেরিয়ার গোলপোস্টে ফেরার কথা লুকার। আলজেরিয়ার প্রথম ম্যাচে সুদানের বিপক্ষে ৩–০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়—দুই ম্যাচেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা, ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
জিদানের পাশাপাশি লুকার মা ও ছোট ভাইও উপস্থিত ছিলেন তাকে সমর্থন দিতে। ম্যাচ শেষে লুকা বলেন, ‘ওরা এখানে আছে, আমাকে সমর্থন করছে—এতে আমি খুব খুশি। যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য পরিবার মাঠে থাকলে সেটা বিশেষ কিছু। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এমনিতেই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’
ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া লুকা জিদানের মা স্প্যানিশ হলেও তিনি বেছে নিয়েছেন তার দাদা–দাদির দেশ আলজেরিয়াকে। আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে জাতীয় দলে যোগ দেন তিনি। মূল গোলকিপার আলেক্সান্দ্রে ওউকিদজার হাঁটুর চোটই মূলত লুকার জন্য এই সুযোগ এনে দেয়। লুকা জিদান তার তিন ভাইয়ের মতোই রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন। সিনিয়র দলে থাকলেও মূলত রিজার্ভ গোলকিপার হিসেবেই সুযোগ পেয়েছেন।
২০১৯ সালে নিয়মিত খেলার সুযোগের খোঁজে ক্লাব ছাড়েন লুকা। বর্তমানে তিনি খেলছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে গ্রানাডার হয়ে। রিয়ালে এখনও এক নম্বর গোলকিপার বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া। নিজের পথ নিয়ে লুকার বক্তব্য স্পষ্ট— ‘আমি নিজেকে আলাদা করে গড়তে চাই। নিজের শর্তে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে চাই। জাতীয় দল হোক বা ক্লাব—দুটো জায়গাতেই আমি দলকে সাহায্য করতে চাই। ধাপে ধাপে এগোনোটাই আমার লক্ষ্য।’