যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যুতে চলমান ধরপাকড়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পোস্ট নতুন করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ কোনো না কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছেন।
তালিকাটির শিরোনাম ছিল- ‘দেশভিত্তিক অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণের হার’। এতে দেখানো হয়েছে, কোন দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি বা কম সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। প্রকাশিত তালিকায় মোট ১২০টি দেশের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১৯তম স্থানে।
তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার আরও চারটি দেশের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে- ভুটান প্রথম স্থানে রয়েছে (৮১.৪ শতাংশ), আফগানিস্তান ষষ্ঠ স্থানে (৬৮.১ শতাংশ), পাকিস্তান ৬০তম স্থানে (৪০.২ শতাংশ), নেপাল ৯০তম স্থানে (৩৪.৮ শতাংশ)।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার, সেখানে ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ প্রায় ৫৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী সরকারি সুবিধা গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে, সেগুলো হলো– ভুটান, ইয়েমেন (৭৫.২%), সোমালিয়া (৭১.৯%), মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ (৭১.৪%), ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (৬৮.১%), আফগানিস্তান (৬৮.১%), কঙ্গো (৬৬%), গিনি (৬৫.৮%), সামোয়া (৬৩.৪%) এবং কেপ ভার্দে (৬৩.১%)।
বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক অভিবাসী শুরুতে অস্থায়ী অবস্থায় থাকায় সাময়িক সহায়তা নিলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা করদাতা হিসেবে অবদান রাখেন।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমানোর পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার এই অবস্থানের কারণে অনেক অভিবাসীর মধ্যে নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।