গাজা উপনিবেশে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর শিশুদের পরিবারগুলো এখন তাদের ঝুঁকিপূর্ণ 'তাঁবু স্কুলে' পাঠাচ্ছে। এসব স্কুলগুলো ইসরায়েলি সেনা অবস্থানের খুব কাছাকাছি তৈরি করা হয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ছোট তাঁবুতে চলছে ক্লাস। ইসরায়েল একে 'হলুদ এলাকা' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্কুলের চারপাশে নিয়মিত গোলাবর্ষণ ও গুলি শোনা যায়, যার কারণে শিশুদের প্রতিটি পাঠ শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জীবন রক্ষা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিভাবকরা বলছেন, প্রতিদিন স্কুলে পাঠানো এখন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, তবুও অনেকেই এই ঝুঁকি নিচ্ছেন যাতে পুরো একটি প্রজন্ম শিক্ষাহীন না হয়। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, পড়াশোনা প্রায়ই গুলির শব্দে বাধাগ্রস্ত হয় এবং শিক্ষার্থীদের মাটিতে লুটিয়ে বসতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত গোলাগুলি না থামে।
ইউনিসেফ সতর্ক করেছেন, চলমান যুদ্ধ গাজার শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। তাদের তথ্যমতে, গাজা স্ট্রিপের প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ৮৮ শতাংশের ব্যাপক সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে প্রায় ৬৩৮,০০০ শিশু এবং ৭০,০০০ প্রি-স্কুল বয়সীরা দুই বছরের নিয়মিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, এবং অনেকেই এখন তৃতীয় বছরের জন্যও শিক্ষাবঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, সংঘাতের মানসিক প্রভাব শিশুদের উপর তীব্র, প্রায় প্রতি চারজনের একজন শিশু ভাষা বিলম্ব বা মানসিক সমস্যায় ভুগছে।