ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট ম্যাক্রোঁকে নিয়ে অনলাইনে লিঙ্গ ও যৌনতা সংক্রান্ত মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার দায়ে ১০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন প্যারিসের একটি আদালত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঘোষিত রায়ে ৪১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী আট পুরুষ ও দুই নারীকে দোষী ঘোষণা করা হয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে পুরুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার ভিত্তিহীন দাবি ছড়ান এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার বয়সের ব্যবধানকে ‘শিশুকামিতা’র সঙ্গে তুলনা করেন। আদালত আট আসামিকে চার থেকে আট মাসের স্থগিত কারাদণ্ড দেন। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর একজনকে অনলাইন ঘৃণাবিরোধী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ ধারাবাহিকভাবে অনলাইন হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—তিনি নাকি তার ভাইয়ের নামে জন্মেছিলেন। দীর্ঘদিন এসব গুজব উপেক্ষা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাক্রোঁ দম্পতি আইনি পদক্ষেপ নেন।আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর কন্যা টিফান অজিয়ের বলেন, অনলাইন হয়রানির কারণে তার মায়ের জীবন ও পুরো পরিবার গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ জানান, তার এই আইনি লড়াই সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তাকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে চিহ্নিত করার বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বন্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। ফরাসি গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, গত বছর একটি উগ্র ডানপন্থী ওয়েবসাইটে প্রথম এই গুজব ছড়ানো হয়। পরে ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক ও অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তা ছড়িয়ে দেয়।