নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রার্থী ও প্রতীকের ছবিসহ রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পুবাইল) নির্বাচনী এলাকা। মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরও এখনো এসব প্রচারসামগ্রী সরানো হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে গাজীপুর-৫ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা, পুবাইল এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডসহ বাড়িয়া এলাকার প্রধান সড়ক, হাট-বাজার, ঘাট, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও প্রতীকের ছবিসংবলিত লক্ষাধিক রঙিন পোস্টার ঝুলছে।
এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো, বিদ্যুতের খুঁটি ও টিএনটি খুঁটিতে পোস্টার লাগানো এবং প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে রাস্তার ওপর ঝুলিয়ে রাখা ফেস্টুন চোখে পড়েছে। এছাড়াও দেয়াল লিখন ও চিকা মারার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাজুড়ে বিলবোর্ড ও ব্যানারের মাধ্যমেও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে— যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন চলতে থাকলে সামনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, ‘কালীগঞ্জের প্রতিটি ঘর, পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, রাস্তা, দোকানপাট, বাজার— কোথাও খালি জায়গা নেই। অথচ আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে মনোনয়নপত্র ফরম বিক্রির পর সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ রাখতে হবে। বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রার্থী আচরণবিধিকে উপেক্ষা করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে গাজীপুর-৫ আসনের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোটাররা।