বাসচালককে মারধরের ঘটনায় এএসপির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নওগাঁর সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের বিরুদ্ধে বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের এএসপি শ্যামলী রানী বর্মন এবং একজন বাস চালকের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা সংগঠিত হয়। যা গত ৬ তারিখে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই ঘটনা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাস সাপাহার থেকে ছেড়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্য রওনা হয়। যাবার পথে ওই বাসটিতে ওঠেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। তিনি ওই বাসে সিটবিহীন টিকিট কেটে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্য উঠেন। বাসটিতে উঠেই তিনি একটি ফাঁকা সিটে বসেন। পথে দিঘার মোড়ে নামক স্থানে পৌঁছালে জয়ন্ত বর্মনকে সেই সিট থেকে উঠে ওই সিটের যাত্রীকে বসতে দেওয়ার অনুরোধ করেন হিমাচল বাসের সুপারভাইজার সিয়াম। সিট ছেড়ে দেওয়ার কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাপাহার সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজার সিয়ামকে হুমকি দেন জয়ন্ত। 

একপর্যায়ে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে যান এবং তর্কে জড়ান জয়ন্ত। এরপর তিনি তার নির্ধারিত গন্তব্যে ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন জয়ন্ত বর্মন। ঘটনার পরপর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল দিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি প্রদান করেন শ্যামলী রানী বর্মন। রাজশাহীতে যাএী নামিয়ে পরবর্তীতে রাত ১০টায় ‘হিমাচল’ পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে আনেন শ্যামলী রানী বর্মন।

ডেকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন তার স্বামী জয়ন্ত বর্মনও। এরপর সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের নির্দেশে তার বডিগার্ড আনন্দ বর্মন এসএস পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। মারধরের কারণে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।