যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মের পর এবার অফিসের সকল ফাইল ও নথিপত্র গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, নিজের স্বাক্ষরিত একটি আদেশে উপজেলা তৈরির পর থেকে অফিসের সকল কাজের ফাইল ও পুরনো নথিপত্র বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এর আগে উপজেলা প্রকৌশলী যোগদান করেই উপজেলার রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে ৬টি প্রকল্প দেখিয়ে ৩৩লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও উপজেলার একাধিক সড়কে অনিয়নে অর্থ হাতানোর তথ্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ অর্থ বাণিজ্য করেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়। তবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তোয়াক্কা নেই তার।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রামগতি। এরপর থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের আওতাধীন এডিপি, উপজেলা রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল, বাসা বাড়ি বরাদ্দ সংক্রান্ত ফাইল, হাটবাজার ইজারা সংক্রান্ত সকল ধরনের ফাইল এবং কাগজপত্র, ১৫০০ বিদ্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত সকল ফাইল এবং ওই সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র, শুরু থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সকল ধরনের কাজের পরিমাপ বহি ও রেজিস্ট্রার, ইলেকট্রিকও কম্পিউটার সংক্রান্ত সকল অকেজো মালা মাল ছাড়াও ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সকল ধরনের ফাইল ও কাগজপত্র বিক্রি করে দেন তিনি।
অফিসের পুরনো যত ফাইল বা নথি কাউকে না জানিয়ে গোপনে ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে পরে উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ হিসাব সহকারী মো. দেলোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী হারুনুর রশিদকে একটি আদেশ দিয়ে এ প্রক্রিয়াটি জায়েজ করার চেষ্টা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব পুরনো ফাইল পুড়িয়ে বিনষ্ট করার বিধান রয়েছে। তবে এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দিবেন। ওই কমিটি পুরনো সকল নথি বা ফাইল সিজার লিস্ট করে কমিটির সকল সদস্যদেরে উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বিনষ্ট করবেন এবং এর ডকুমেন্টস রাখবেন।
কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ এর কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে সকল ফাইল রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়। এমন খবরে উপজেলার বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলার এলজিইডি হিসাব সহকারী দেলোয়ার হোসেন অফিসের সকল ফাইল বিক্রি করার কথা স্বীকার করলেও অফিস সহকারী হারুনুর রশিদ কোন কথা বলতে রাজি হননি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অফিসের পুরানো নথি বিকরয় দুইজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। ওনারা কি করছে তা আমার জানা নেই।
লক্ষ্মীপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সরকার বলেন, অফিসের এ ধরনের পুরনো ফাইল বা কাগজপত্র বিক্রি করার কথা নয়। তারপরও আমি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।