প্রবাসী পাকিস্তানিরা এখন থেকে ৩ বছরের পুরনো গাড়ি দেশে আনতে পারবেন

বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো পাকিস্তান সরকার। দেশটির ফেডারেল মন্ত্রিসভা গাড়ি আমদানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ‘ট্রান্সফার অফ রেসিডেন্স’ (বসবাস পরিবর্তন) এবং ‘গিফট স্কিম’ বা উপহার প্রকল্পের আওতায় তিন বছর পর্যন্ত পুরনো গাড়ি আমদানি করা যাবে।

গত ৯ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটির (ইসিসি) নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রস্তাবনার ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, এখন থেকে কেবল ‘ট্রান্সফার অফ রেসিডেন্স’ এবং ‘গিফট স্কিম’ চালু থাকবে; বাকি সুযোগগুলো বাতিল করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুই প্রকল্পের অধীনে আমদানিকৃত গাড়িগুলোকে অবশ্যই বাণিজ্যিক আমদানির নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। এছাড়া, গাড়ি আমদানির মধ্যবর্তী বিরতির সময়সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। তবে আমদানিকৃত গাড়িগুলো দেশে আনার পর এক বছর পর্যন্ত অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই সিদ্ধান্তটি এখন ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের জন্য আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করবে।

এর আগে গত বছরের ২৪ অক্টোবর ইসিসি এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আলোচনার সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে।

শিল্প ও উৎপাদন মন্ত্রণালয় অপব্যবহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কথা মাথায় রেখে উপহার এবং ব্যক্তিগত ব্যাগেজ স্কিম বন্ধের সুপারিশ করেছিল। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকৃত প্রবাসীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে সবগুলো স্কিম বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দেয়। শেষ পর্যন্ত আলোচনার ভিত্তিতে ‘ট্রান্সফার অফ রেসিডেন্স’ ও ‘গিফট স্কিম’ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

ফেডারেল বোর্ড অফ রেভিনিউয়ের (এফবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, প্রযোজ্য শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে নতুন গাড়ি আমদানিতে কোনো বাধা নেই। দ্বৈত নাগরিকসহ সকল প্রবাসী পাকিস্তানিরা নির্দিষ্ট বয়সসীমা মেনে পুরনো গাড়ি আমদানি করতে পারবেন।

তবে মোটরসাইকেল ও স্কুটার আমদানির ক্ষেত্রে কেবল ‘ট্রান্সফার অফ রেসিডেন্স’ সুবিধাটি কার্যকর হবে। এছাড়া, যারা পাকিস্তান থেকে রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ছাত্র, উপার্জনে অক্ষম নির্ভরশীল ব্যক্তি কিংবা গত দুই বছরের মধ্যে গাড়ি আমদানি বা উপহার দিয়েছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন না।

সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে আগের প্রণোদনাগুলো বহাল থাকছে। ১৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং ১৮০০ সিসি থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে।