পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ওই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর যুব সংগঠনের নেতা সুজন খান (২৫), জামায়াত কর্মী রাকিব হাসান ও আব্দুল বারেক মাঝি এবং ছাত্রদলের দুই নেতা সাইদুল ইসলাম (২৩) ও জহিরুল ইসলাম সোহাগ (২২) রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক একটি সভা করছিলো। উক্ত সভা চলাকালে হঠাৎ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে প্রবেশ করে, বিদ্যালয়ে সভা করার জন্য তারা অনুমতি নিয়েছে কি না জানতে চায়। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে জামায়াতের কর্মীরা ছাত্রদলের ওই কর্মীদের উপর চড়াও হলে উভয় দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় দলের অন্তত পাঁচ কর্মী-সমর্থকরা আহত হন।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষে বিনা অনুমতিতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বৈঠক আয়োজন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিষয়টি জানতে চাইলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের দুই নেতা আহত হন।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের কক্ষে বৈঠক চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা শুরু হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জামায়াত নেতাদের দাবি, সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচারণা ছিল না, এটি একটি নিয়মিত দলীয় সভা ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে এসে ছাত্রদলের নেতারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।