ওড়িশার জগৎসিংহপুর জেলায় বসবাসকারী ১৪ সদস্যের একটি বাঙালি মুসলিম পরিবারকে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। স্বজনদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশি সীমান্ত কর্মকর্তারাও দুই দেশের মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ডে পরিবারটির আটকে পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারটির কাছে থাকা নথিপত্রে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তাদের পারিবারিক শিকড় থাকার তথ্য রয়েছে। এদিকে ওড়িশা পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে অবৈধ অভিবাসী শনাক্তে অভিযান চলছে। তবে চলমান তদন্ত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
পরিবারটিতে নারী, শিশু ও নব্বই বছর বয়সী এক বৃদ্ধা রয়েছেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় দুই মাস আগে জগৎসিংহপুরে তাদের আটক করা হয়। এরপর ২৬ ডিসেম্বর সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হলে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড চুয়াডাঙ্গা জেলায় তাদের আটক করে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে দুই দিন পর তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে পরিবারের এক সদস্য দাবি করেছেন, সীমান্তের দুই পাশে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে পরিবারটির সদস্যদের একাধিকবার এপারে–ওপারে পাঠানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চার দফা এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন তারা। বর্তমানে নয়জন বাংলাদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করা হলেও পাঁচজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে আটক থাকার সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে পরিবারের এক সদস্য গুলির হুমকির কথাও বলেন, যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।