প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পিএসসির চেয়ারম্যান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রমাণসহ সারাদেশে অন্তত ২১জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে সেই নোটিশ উপেক্ষা করেই শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলার ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনের তথ্য অনুযায়ী ১৪ হাজার ৩৮৫ পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী।
পূর্ব থেকেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও ‘কেন্দ্র কন্ট্যাক্টের’ মতো অনিয়মের শঙ্কা ছিল। তারই ধারাবাহিকতা বৃহস্পতিবার পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এসব অনিয়ম উপেক্ষা করেই সারাদেশে অনুষ্ঠিত গেল প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষাক নিয়োগ পরীক্ষা।
পরীক্ষার দিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগেশ্বরী উপজেলা পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটকদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়, একজনের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এবং বাকি ৭ জনের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলায়। আটকদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রস্তুতির সময় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের কাছে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও ডিভাইস পাওয়া গেছে। তবে পরীক্ষার কেন্দ্রে দেয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আটকদের কাছে পাওয়া প্রশ্নপত্রের মিল আছে কি না, তা এখনও মিলিয়ে দেখা হয়নি।’
নওগাঁতেও পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ২ সদস্যসহ ৯ জনকে আটক করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের পোঁরশা রেস্টহাউস ও হোটেল নীল সাগর থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি অ্যান্ড্রয়েড, ৪টি ফিচার ফোন এবং নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৬ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, ১ জন অভিভাবক ও দালাল চক্রের সদস্য ২ জন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিন দুপুরে অভিযান চালিয়ে নগরের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন— রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাপরিখাল ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের ছেলে গোলাম কিবরিয়া এবং শ্রী গোপাল চন্দ্রের ছেলে সুমন চন্দ্র। তাদের কাছ থেকে প্রশ্ন ফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।