গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে তাকে যেকোনো সময় খুন করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে মুছাব্বিরের লাশ নেওয়ার সময় এ তথ্য জানান তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।
‘আমাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে। আমার অনেক শত্রু তৈরি হয়ে গেছে। কে কোন দিন আমাকে মেরে ফেলবে, সেটা বলাও যাবে না’-এমন কথা প্রায়ই স্ত্রীকে বলতেন মুছাব্বিল। তবে পরিবারকে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতেন না বলে উল্লেখ করেন তার স্ত্রী।
সুরাইয়া জানান, মুছাব্বির সব সময় সতর্কভাবে চলাফেরা করতেন। কোথাও গেলে সঙ্গে লোকজন রাখতেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রথমবার তার ওপর সরাসরি হামলা হয়। সেই হামলায় তাকে গুলি করা হয় এবং তিনি মারা যান।
মুছাব্বিরের স্ত্রী বলেন, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন। তার রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সভার কারণে প্রায়ই তার বাসায় ফিরতে দেরি হতো। দেরি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানাতেন।
সুরাইয়া জানান, রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে মুছাব্বির পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি আলোচনা করতেন না। সবকিছুই নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন।
উল্লেখ্য যে, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের গলিতে গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বির। এ সময় কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাতে তেজগাঁও থানা পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা দুজনকে গুলি করে। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বিআরবি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার রাতে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানায়, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।