জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের চোখে পড়ার মতো সাফল্য দেশের ছাত্ররাজনীতিতে সংগঠনটির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্রগ্রাম, জগন্নাথ) ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে বিজয় শিবিরের প্রভাব তৈরি করেছে। এই প্রভাবকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা কাজে লাগানোর কৌশল হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘোষিত জকসু নির্বাচনের ফলাফলে ভিপি-জিএসসহ ২১টি পদের ১৬টিতে জয় পায় শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পাঁচটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবিরের এই ধারাবাহিক সাফল্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত তাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়। গত অক্টোবরে প্রথম দফায় এই কমিটি গঠিত হয়েছিল। পুনর্গঠিত কমিটিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী একাধিক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কয়েকজন সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
২০২০ সালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিরাজুল ইসলামসহ, ২০২৩ থেকে পরবর্তী তিন বছরে দায়িত্বে থাকা রাজিবুর রহমান পলাশ, মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম-এই চারজনকেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সাম্প্রতিক পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা শিবিরের প্রার্থীদের প্রতি আস্থা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগাতেই শিবিরের সাবেক নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সদ্য বিদায়ী শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইসলাম ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ের ইস্যুতে সহযোগিতার কথা বলা আছে। সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতৃত্বের পক্ষে মাঠে থাকবে শিবিরের নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনে দেশের তরুণ সমাজসহ সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা করছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে। এই বার্তা যেন জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট বাক্সে পৌঁছায়-সে লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য প্রয়োজন।
নতুন কমিটিতে জামায়াতের যুব ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও যুব শাখার সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
আতিকুর রহমান জানান, জামায়াতের নির্বাচনী ভাবনায় যুব ও শ্রমিক সমাজের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে সামনে রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনের বার্তা পৌঁছে দিতে সংগঠনের কর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং মাওলানা আব্দুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, মোবারক হোসাইন, এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও এডভোকেট আতিকুর রহমান, যারা পূর্বে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
এ ছাড়া সাবেক আমলাদের মধ্যে খন্দকার রাশেদুল হক, মু. সফিউল্লাহ, আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম মোস্তফা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সফিকুল ইসলাম ও মেজর (অব.) মুহাম্মদ ইউনুস আলী শাহজাহান-কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।