ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠ জুড়ে যেন বিছানো রয়েছে হলুদ গালিচা। রঙের পাশাপাশি সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধ মাতিয়ে তুলেছে পুরো এলাকা। রঙ আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।
মিয়াকুন্ডু গ্রামের মতোই ঝিনাইদহ সদরসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিভিন্ন উপজেলার মাঠ। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ডু, কালিগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে ১৩ হাজার ২২৯ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ২৩৫ টন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা আর কৃষি বিভাগের প্রণোদনা দেওয়ায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিমিত পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো আশা করছেন তারা।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘এবার ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। এ কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।’
একই গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘সামনে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বিঘাপ্রতি আমরা ১০ থেকে ১১ মণ ফলন পাব বলে আশা করছি।’
কৃষক বসির মিয়া বলেন, ‘এবার সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। তেলের যে দাম, কিনে খাওয়ার মতো নেই। এবার সরিষার ফলন হলে সয়াবিন তেলের ওপর আমরা আর নির্ভর করব না। এবার নিজেদের জমির উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই সারা বছর চলবে। সরিষা আবাদে আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর-এ-নবী বলেন, ‘ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর কৃষকদের পর্যাপ্ত সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
ফলন ভালো পেতে আমরা নিয়মিত কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষ করাচ্ছি।
এতে যেমন সরিষার ফলন বাড়ছে, তেমন মধু উৎপাদন হচ্ছে। আমরা এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা পাব বলে আশা করছি।’