হবিগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের দিকে ঝুঁকছে চা শ্রমিকরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ ও আলোচনা। গ্রাম থেকে শহর, হাটবাজার থেকে চা বাগান— সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এর ব্যতিক্রম নয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা। বিশেষ করে এই দুই উপজেলার ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলায় রয়েছে ৫টি এবং চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে ১৮টি চা বাগান। এসব বাগানে বসবাসরত হাজারো শ্রমিক আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অভাব— এমন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চা শ্রমিকদের জীবনযাপন দীর্ঘদিন ধরে চলমান।

চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, ‘সৈয়দ মো. ফয়সল ও তাঁর পরিবার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আপদে-বিপদে আমরা সব সময় তাঁদের পাশে পেয়েছি। শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তারা আমাদের আস্থা অর্জন করেছেন। সায়হাম শিল্প কারখানায় বহু চা শ্রমিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী।’

সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সুশীল কর্মকার বলেন, ‍‍‍‍‌‌‘চা বাগান এলাকার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক পিছিয়ে। আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, অসুস্থ হলে ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। সৈয়দ মো. ফয়সল এমপি নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন— এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তাঁকে সমর্থন করছি।’

লালচান চা বাগানের শ্রমিক নেতা ভারত মুন্ডা বলেন,‌‌ ‌‌‌‌‘আমরা আদিবাসী মানুষ, আমাদের কথা শোনার লোক খুব কম। সৈয়দ মোঃ ফয়সল আগে থেকেই আমাদের খোঁজখবর নেন। তিনি সংসদে গেলে চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলবেন— এই আশায় আমরা ধানের শীষের দিকে ঝুঁকছি।’

আমু চা বাগানের শ্রমিক শ্যামলী ভুমিজ বলেন, ‘বছরের পর বছর আমরা অবহেলিত। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল— সবকিছুরই অভাব। কিন্তু সৈয়দ মো. ফয়সলকে আমরা কাছে পেয়েছি। তিনি আমাদের কথা শোনেন। তাই বিশ্বাস করি, তিনি এমপি হলে চা বাগান এলাকার উন্নয়ন হবে।’

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, ‘চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। মানুষের ভালোবাসাই আমার রাজনীতির মূল শক্তি।’

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই হবিগঞ্জ-৪ আসনে চা শ্রমিকদের ভোটের সমীকরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।