গজারিয়ায় ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় আটক ২

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আলোচিত ইজি বাইক চালক শাহজালাল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই ইজিবাইক উদ্ধারসহ দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, মামলার রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত শাহজালাল (৩৭) গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দী গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটো রিকশাচালক ছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর প্রতিদিনের মতো সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে অটো রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ৬ ডিসেম্বর বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া এলাকায় কাজলী নদীতে একটি লাশ ভেসে ওঠার খবর পায় স্থানীয়রা। পরে নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম লাশটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তে গজারিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল শিকদারের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযান শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। সে গজারিয়ার নতুন বলাকি গ্রামের শুরুর আলীর ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়, ঘটনার দিন সে ভবেরচর বাজার থেকে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট কিনে। পরে অটো রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টার দিকে শাহজালালের সঙ্গে দেখা করে পানীয় স্পিডের সঙ্গে ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ায়। কিছুক্ষণ পর শাহজালাল অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়িতে থাকা দড়ি দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে কাজলী নদীর খালে ফেলে দেয়। এরপর অটো রিকশাটি নিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা থানার মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলে যায়।

পরদিন ইব্রাহিম তার অপর বন্ধু ফাহিম (২৪) এর কাছে ৪৭ হাজার টাকায় অটো রিকশাটি বিক্রি করে দেয়। ফাহিম কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার দাউদেরখাড়া এলাকার খোরশেদের ছেলে।

ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম জানান, তিনি অটো রিকশাটি কিনে তার বাবাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিয়েছিলেন। পরে তার দেওয়া তথ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানাধীন দাউদেরখাড়া এলাকার বাড়ি থেকে অটো রিকশাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।