সূর্যে যখন বৃষ্টি হয়

সূর্যে যে বৃষ্টি হয়, তা আসলে প্লাজমা বৃষ্টি। বহুবার এই মহাজাগতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ঘটনার নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে নানা যুক্তিও সাজিয়েছিলেন তারা। সেসব পুরনো ধারণা ভেঙে দিয়ে এবার নতুন তথ্য হাজির করেছেন, আমেরিকার ‘ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির দুই বিজ্ঞানী জেফ্রি রিপ এবং তার ছাত্র লুক বেনাভিৎজ। কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এর বাইরে চতুর্থ অবস্থা রয়েছে পদার্থের। যাকে প্লাজমা বলে। মূলত হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাস প্রবল উত্তাপে আয়নিত হয়ে প্লাজমা  তৈরি হয়, যা দিয়ে সূর্যের বাইরের এবং ভেতরের অংশ গঠিত। সূর্যের বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের স্তরকে বলে ‘করোনা’। এই স্তরেই কখনো কখনো ঠা-া এবং ঘন প্লাজমার দলা পাকায়। পরে সেই প্লাজমার দলা দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ভারী হয়ে সূর্যের পিঠে নেমে আসে, যা দেখতে অনেকটা বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটার মতো। একেই সৌরবৃষ্টি বা ‘করোনাল রেন’ বলেন বিজ্ঞানীরা।  সূর্যের অন্দর থেকে শক্তি ছিটকে বেরিয়ে মহাশূন্যে যে আগুন ঝরানো সৌরঝলক (সোলার ফ্লেয়ার) তৈরি হয়, তার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দেখা যায় এই সৌরবৃষ্টি। হানাদার সৌরঝড়, সৌরবায়ু, সৌরকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে চাইলে, চৌম্বক মণ্ডলের সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই হয়। তীব্র ধাক্কাধাক্কির পর ফাঁক গলে কিছু ঝডঝাপ্টা ঢুকে পড়ে আয়নোস্ফিয়ারে। কিন্তু এ জন্য জরুরি, সূর্যের বায়ুমণ্ডল অর্থাৎ করোনার চরিত্র বোঝা। সাম্প্রতিক গবেষণার সূত্র ধরে তা খানিক সম্ভব হতে পারে বলেই অনুমান মহাকাশ বিজ্ঞানীদের।