জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে তিন বিষয় বাস্তবায়ন জরুরি

জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূলে ভ্যাকসিনেশন, স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি। অথচ দেশে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ রোগীর মাত্র ৩০ জনের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। বাকি ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য হলেও দেশে এই সেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

জানুয়ারি মাস সারা বিশ্বে জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয় শনিবার বেসরকারিভাবে জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটি পালন উপলক্ষে ‘মার্চ ফর মাদার’ মোর্চার পক্ষে কমিউনিটি অনকোলোজি সেন্টার ট্রাস্ট ও ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জননীর জন্য পদযাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী, অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ  ড.  হালিদা হানুম আখতার। প্রধান আলোচক ছিলেন কমিউনিটি অনকোলোজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম ও গাইনোকোলোজিক্যাল অনকোলোজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, কমিউনিটি অনকোলোজি সেন্টার ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাবেরা খাতুন।

অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো রোগে আক্রান্তের হার যদি প্রতি এক লাখে চারজনের নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে সেটিকে ‘এলিমিনেশন’ বা নির্মূল বলা যায়। জরায়ুমুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি ভ্যাকসিনেশন, স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।

এই ক্যানসারের জন্য দায়ী এইচপিভি নামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, তবে স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা, বিশেষ করে বিকিরণ চিকিৎসা পেতে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারকে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ জন রোগীর মধ্যে মাত্র ৩০ জনের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। বাকি ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য হলেও দেশে এই সেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তিনি বলেন, রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন দরকার। শুধু চিকিৎসক নয়, যারা সামাজিকভাবে কাজ করেন, সবারই এই দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ড. হালিদা হানুম আখতার রেড ক্রিসেন্টের ৬৮ শাখায় পর্যায়ক্রমে ক্যানসার সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ এর সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ক্যানসার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহবুব শওকত, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার, লেখক আসিফ হাসান নবী। আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মগবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত জননীর জন্য পদযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।