আল-জাজিরা

ইরানে বিক্ষোভে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত

অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসফাহান প্রদেশে অন্তত ৩০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সারা দেশে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯ জনে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ত্রাণকেন্দ্রে হামলায় ইরানের রেড ক্রিসেন্টের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।

সরকারি কর্মকর্তারা বিক্ষোভগুলোকে 'দাঙ্গা' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করেছেন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় সামরিক হামলার হুমকি দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

এর জবাবে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

নেটব্লকস জানায়, সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলমান।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের খবরে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে, যদিও সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে বাইরে আসা ভিডিও ও তথ্য বিশ্লেষণে দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক, কারাজের ফারদিস এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় হতাহতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের একটি হাসপাতালেও স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ আনার তথ্য পাওয়া গেছে।