সাবালেঙ্কার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন না, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্ণনায় কাঁদলেন কোস্তিউক

টেনিস কোর্টে পরাজয়–জয় প্রতিদিনের ঘটনা। কিন্তু ব্রিসবেনে ২০২৬ ডব্লিউটিএ ৫০০ টুর্নামেন্টের ফাইনালটি স্মরণীয় হয়ে থাকল ট্রফির জন্য নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতার জন্য। ফাইনালে বিশ্ব নম্বর এক আরিনা সাবালেঙ্কার কাছে ৬–৪, ৬–৩ ব্যবধানে হেরে গেলেও ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউকের কণ্ঠে উঠে আসল দেশের মানুষের কষ্ট আর অমানবিক জীবনের গল্প।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোস্তিউক আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের সামনে তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন খেলতে নামি হৃদয়ের ভেতর গভীর ব্যথা নিয়ে। এখনই আমার দেশে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বা গরম পানির সুবিধা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে। বাইরে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি। আমার বোন তিনটি কম্বলের নিচে ঘুমায়, কারণ ঘরের ভেতরও প্রচণ্ড ঠান্ডা। এই বাস্তবতা সত্যিই খুব কষ্টের।”

এই বক্তব্যের সময় কোর্টের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবালেঙ্কা—বেলারুশিয়ান এই তারকার মুখে ছিল নির্লিপ্ত, স্থির দৃষ্টি। ফাইনালের আরেকটি দৃশ্যও আলাদা করে চোখে পড়েছে—ম্যাচ শেষে দুজনের মধ্যে কোনো করমর্দন হয়নি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই ইউক্রেনের বেশিরভাগ টেনিস খেলোয়াড় রাশিয়া ও তাদের মিত্র দেশগুলোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন না করার নীতি মেনে চলছেন। এটি তাদের নীরব প্রতিবাদ, যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী অবস্থান।

পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন কোস্তিউক। বলেন, “আমার একটা কণ্ঠ আছে। এই অবস্থানে থেকেও যদি আমি এসব কথা না বলি, সেটা আমার কাছে অমানবিক। আমার বাবা–মায়ের ঘরে জেনারেটর আছে, কিন্তু আত্মীয়দের অনেকেই শীতের রাতে ঘরের ভেতর জ্যাকেট পরে হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান।”

সাবালেঙ্কার ‘অ্যাথলেট–নিরপেক্ষতা’

অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা শুরু থেকেই নিজেকে ‘শুধু একজন অ্যাথলেট’ হিসেবে তুলে ধরতে চান। করমর্দন না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওদের অবস্থান ওদের ব্যাপার। আমি কিছু মনে করি না। কোর্টে নামলে আমি শুধু আমার টেনিস নিয়েই ভাবি। সামনে মার্তা কোস্তিউক থাকুক বা জেসিকা পেগুলা—আমার লক্ষ্য একই।”

তবে সাবালেঙ্কার এই নিরপেক্ষতার পেছনে রয়েছে জটিল বাস্তবতা। ২০২৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলে সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “আমি যুদ্ধ সমর্থন করি না। এর মানে আমি প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও সমর্থন করি না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বেলারুশ সরকারের সঙ্গে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছিলেন সাবালেঙ্কা। তবুও কোস্তিউকের মতো খেলোয়াড়দের চোখে নিরপেক্ষতা যথেষ্ট নয়—তারা চান আরও দৃঢ় অবস্থান, আরও স্পষ্ট প্রতিবাদ।