পঞ্চগড়ে বাংলাদেশপন্থি শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সেনা সদস্যদের লাঠিচার্জের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে জেলা শহরের শেরেবাংলা পার্ক মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুর সোয়া ২টার দিকে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের পর সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার সড়ক অবরোধে পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। বিকেল ৪টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে বক্তব্য শেষে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি সমাপনী বক্তব্যের শেষে আকস্মিক সেনা সদস্যরা মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেলেও তারা সড়কের এক পাশে নীরবে দাঁড়িয়েছিলেন।
এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে আসেন এবং উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি, সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান, ছাত্র আন্দোলনের আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। আমরা কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছি। আকস্মিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা ও লাঠিচার্জ করে। এসময় আমাদের ২০-২৫ আহত হন। আমিসহ ২৩ জন আপাতত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমরা এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় আমাদের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের সড়কের একপাশে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলেন। এ সময় তারা আমাদের সদস্যদের উপর উত্তেজিত হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের সরিয়ে দেওয়ার সময় কারো কারো উপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে। তবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।