সাভারে বন্ধ দুই পোশাক কারখানা আরেকটিতে বিক্ষোভ

সাভারে দুটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আরও একটি পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মরত শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। গতকাল রবিবার সকালে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এ্যামট্রানেট লিমিটেড গার্মেন্টস পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এদিন সকাল ৮টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে ক্রসওয়্যার ও জিহান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিস দেখতে পায়।

এ্যামট্রানেট লিমিটেড গার্মেন্টস কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ডিসেম্বর মাসের বেতন কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনো পরিশোধ করেনি। শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বার আলোচনা করে। তবে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেনি। তাই বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে বলে জানায়।

অন্যদিকে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ক্রসওয়্যার ও জিহান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে আসে। এ সময় শ্রমিকরা কারখানার গেটে বন্ধের নোটিস দেখতে পায়। পরে কাজে যোগ না দিয়ে তারা বাসায় ফিরে যায়।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ক্রসওয়্যার ও জিহান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের বেতন অনিয়মিত। তবে ওই দুই পোশাক কারখানার বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এ্যামট্রানেট লিমিটেড গার্মেন্টস নামে আরও একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ করে হামলা, ভাঙচুর ও কারখানা কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানার পুলিশ। তারা সবাই কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী এলাকার ‘গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড’ কারখানায় অভিযুক্তরা অন্য শ্রমিকদের নিয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবিতে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে স্টিলের পাইপ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা হাতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে বেলা ১১টার দিকে কারখানার সিনিয়র অফিসার (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলোচনার সময় চাইলে অভিযুক্তরা গালাগাল করেন। এতে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে  সহকারী মেডিকেল অফিসার আলিমুজ্জামান ও সিনিয়র ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. শহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শনিবার রাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।