আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪৪ জন প্রার্থীর হলফনামা জমা পড়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নেওয়ার কারণে প্রার্থীর সংখ্যা কমতে পারে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন কোটিপতি। অধিকাংশ প্রার্থী আয় ও সম্পদের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প অবস্থানে রয়েছে।
এনসিপির কোটিপতি প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-২০ আসনের প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন, সিলেট-৪ আসনের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আইটি ডেভেলপার রাশেল উল আলম, নাটোর-৩ আসনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদের এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলম। হলফনামা অনুযায়ী, সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে নাবিলা তাহসিন। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বিপরীতে মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী প্রীতশ দাশের মাসিক আয় ছয় হাজার টাকা। নরসিংদী-২ আসনের গোলাম সারোয়ার (তুষার) কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেননি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত এনসিপি এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলটির জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে ৩০টি আসনে ছাড় পাবার সম্ভাবরা রয়েছে। ফলে ১৪ জন প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়া তে হতে পারে। এ ছাড়া দলের শীর্ষ ১০ নেতার মধ্যে ছয়জন এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে।
হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৩২ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। তবে আয়ের দিক থেকে তিনি দলের শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারের বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা ও গবেষণা থেকে তিনি বছরে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন। স্বর্ণের মালিকানার দিক থেকেও তিনি এগিয়ে। তাঁর কাছে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এনসিপির প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলটির একটি বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া এই দলের প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের বৈচিত্র্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক আলোচিত বিষয়।