বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবার তৈরি হলো নতুন ইতিহাস। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও ঢাকা ক্যাপিটালসের ম্যাচে একই দলে খেললেন আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী এবং তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ইসাখিল। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই দলে বাবা-ছেলে খেলেছেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একাদশে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই ইসাখিলকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। সেই প্রত্যাশার পুরো মূল্যই দিলেন তিনি। ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের বিপিএল অভিষেক স্মরণীয় করে রাখেন এই স্টাইলিশ ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ১৫৩.৩৩। চতুর্থ উইকেটে বাবার সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি নোয়াখালীকে এনে দেয় টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ—৭ উইকেটে ১৮৪ রান। শেষ পর্যন্ত ৪১ রানের বড় জয় পায় নোয়াখালী।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাবা–ছেলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হাসিমুখে ইসাখিল বলেন, ‘না, না, বাবা একদম কঠোর নন। আমরা সাধারণ বাবা–ছেলের মতো, বন্ধুর মতো।’ পাশে বসা ৪১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার নবী হালকা হাসি দিয়ে যোগ করেন, ‘আমি শুধু অনুশীলনের সময় কঠোর। সেখানে কোনো অজুহাত নেই।’ বাবা-ছেলের এই কথোপকথনে পুরো প্রেসরুমে হাসির রোল পড়ে যায়।
নবী জানালেন, এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ম্যাচের আগের দিন প্রায় ৯০ মিনিট ধরে ছেলেকে আলাদা করে প্রস্তুত করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে চেয়েছি। তাকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করেছি। আমি তাকে বলেছি কী ধরনের বোলারদের মুখোমুখি হতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কী বল আসতে পারে—দ্রুত নাকি স্লোয়ার। সাইড-আর্ম স্টিক দিয়ে তাকে বেশ কষ্টই দিয়েছি। সে এসব মাঠে কাজে লাগিয়েছে।’
৯২ রানে আউট হওয়া নিয়ে ইসাখিলের কোনো আফসোস নেই, ‘ওই সময় আমি ছক্কা মারার চেষ্টা করছিলাম, দলকে বড় সংগ্রহ দিতে চেয়েছি। তাই শতক না পাওয়ায় হতাশ নই।’ অনেকে মনে করেন, ইসাখিল ব্যাটিংয়ে বাবাকে অনুকরণ করেন। তবে তা মানতে নারাজ তরুণ ব্যাটার, ‘সবার কাছ থেকেই শুনি আমি বাবার মতো খেলি। কিন্তু এটা স্বাভাবিকভাবেই আসে। আমি কাউকে নকল করি না।’