সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী কারাগারে ল্যাপটপ নিয়ে প্রবেশে বাধা এবং আসামির সঙ্গে আইনি পরামর্শের পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। তবে শুনানি পেছানোর আবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
শুনানির শুরুতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় ও কারাবন্দি জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চার্জ গঠনের আর্জি জানান। এরপর পলকের আইনজীবী এম লিটন আহমেদ সময়ের আবেদন করেন।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে গত ৯ জানুয়ারি তারা কারাগারে গিয়েছিলেন। কিন্তু ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিয়ে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। ফলে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত বা ভিডিও প্রমাণ আসামিকে দেখানো সম্ভব হয়নি।
এই যুক্তিতে আইনজীবী আগামী শুক্রবার কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতের অনুমতি এবং ১৮ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করার প্রার্থনা করেন। তবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আইনজীবীরা চাইলে আজই ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আসামির সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। ট্রাইব্যুনালও আজই কাজ সেরে ফেলার পরামর্শ দেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, প্রসিকিউশনের দেওয়া ১০টি ভিডিওর মধ্যে কয়েকটি তারা খুলতে পারেননি। এছাড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কলেবর বড় হওয়ায় প্রস্তুতির জন্য তাদের সময় প্রয়োজন।
শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের বারবার সময় চাওয়ার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ওনারা বিচারকাজকে বিলম্ব করতে চাইছেন। ওনারা আশায় আছেন নির্বাচন হলে বিচার-টিচার হবে না।’
চিফ প্রসিকিউটরের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে? এমন বলেন না, এমন বলেন না।’ জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওনারা কী বলেন, সব কথা আমাদের কানে আসে।’ এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষকে রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে এ মামলা চলছে।