ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর কর্মজীবন

মানব সমাজের সকল স্তরের মানুষ যেন সমান মর্যাদা ও সুযোগ পায় ইসলাম তারই একটি নিদর্শন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত; মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য চাকরি করা জায়েজ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের যে বিধানগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে।

পেশা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো যে কাজ বা পেশা পুরুষের জন্য বৈধ, কিছু কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত তা নারীর জন্যও বৈধ। নারীরা তাদের পারিবারিক, সামাজিক দায়িত্ব সমূহ যথাযথভাবে পালন করার পর যদি বাইরে গিয়ে কাজ করার একান্ত প্রয়োজন হয় তাতে শরীয়ত সম্মত হলে কোনো বাধা নেই৷ পূর্ণ ভারসাম্য বজায় রেখে ইচ্ছা করলেই নারীরা কর্মে নিযুক্ত হতে পারে।

পবিত্র কুরআনে সূরা: আন-নিসায় বলা হয়েছে

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَكُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡكُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِیۡمًا

হে মুমিনরা, তোমরা একে অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমাদের পরস্পর সন্তুষ্টিচিত্তে ব্যবসা করা বৈধ।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ব্যবসা ও লেনদেনের বৈধতা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। ইসলাম বিনা প্রয়োজনে নারীকে ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করলেও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রেখে নারীদের ঘরের বাইরে যেতে কোন বাধা নেই।

তবে কিছু যে বিধি নিষেধ নেই তা কিন্তু নয়। এই যেমন বলা হয়েছে যে নারীরা পর্দা অনুসরণ করবে। যেখানে অবাধ মেলামেশা আছে সেখানে চাকরি করবে না। এ বিষয়গুলো খেয়াল রেখে চাকরি করতে পারে এবং চাকরি করা নারী জন্য জায়েজ রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لأنْ يَحْتَطِبَ أَحَدُكُمْ حُزْمَةً عَلَى ظَهْرِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ أَحَدًا فَيُعْطِيَهُ أَوْ يَمْنَعَهُ

২০৭৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো পক্ষে এক বোঝা লাকড়ী সংগ্রহ করে পিঠে বহন করে নেয়া কারো নিকট চাওয়ার চেয়ে উত্তম। কেউ দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। (১৪৭০, মুসলিম ১২/৩৫, হাঃ ১০৪২, আহমাদ ৯৮৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯২৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯৪৪)

এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়

১। প্রকৃত ইসলাম হলো বৈধ এবং পবিত্র রুজি রোজগারের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সুখী করার একটি সত্য সঠিক ধর্ম। তাই এই ধর্মটি মানুষকে অপরের অর্থ, সম্পদ বা অন্য কোনো জিনিস যাচন করতে নিষেধ করেছে। কেননা তাতে মানুষের মান সম্মান এবং শক্তি নষ্ট হয়ে যায় আর তার জীবনে লোভ ও আলস্য বৃদ্ধি পায় ও বেড়ে উঠে।

২। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর আস্থা রেখে বৈধ ও পবিত্র রুজি রোজগার এবং জীবিকার্জন করবে, প্রকৃত ইসলাম ধর্মে তার মহাসম্মান রয়েছে। আর যে কোনো বৈধ ও পবিত্র কর্মের মাধ্যমে রুজি রোজগারের মহামর্যাদাও রয়েছে। যদি সেই কর্মটিকে সঠিকভাবে উন্নত পন্থায় বৈধ পদ্ধতিতে সম্পাদন করা হয় এবং হারাম বস্তু থেকে তাকে রক্ষা করা হয়। 

৩। মুসলিম ব্যক্তি যেন নিজের এবং নিজের স্ত্রী ও শিশু সন্তানসন্ততিদের ভরণপোষণ ও খোরপোশের সমস্ত খরচ সঠিক পন্থায় বহন করার উদ্দেশ্যে বৈধ ও পবিত্র রুজি রোজগার এবং জীবিকার্জন করে, তার প্রতি তাকে প্রকৃত ইসলাম ধর্ম উৎসাহ প্রদান করে। অনুরূপভাবে সে যেন সুখে শান্তিতে সম্মানের সহিত জীবনযাপন করতে পারে, তার উপযুক্ত উপায় অবলম্বন করার প্রতিও তাকে প্রকৃত ইসলাম ধর্ম উৎসাহ প্রদান করে। কেননা বেকারত্ব ও আলস্য এবং অকর্মা বা কর্মহীন হয়ে বসে থাকার বিষয়টিকে প্রকৃত ইসলাম ধর্ম ঘৃণা করে।