ইরানি নেতারা সমঝোতা করতে ফোন করেছে: ট্রাম্প

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের ১৬তম দিনেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় রয়েছেন। দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ এখনও বন্ধ রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তেহরানের একটি মর্গে তোলা ফুটেজ থেকে কমপক্ষে ১৮০টি সাদা কাফন পরা মরদেহ গণনা করেছে বিবিসি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতারা ‘নেগোশিয়েট’ করার জন্য যোগাযোগ করেছেন। কেননা তিনি দেশটিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা গতকাল ফোন করেছে।’

রবিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা নেগোশিয়েট বা সমঝোতা করতে চায়। বৈঠকের আগে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’

গত সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানি বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় তবে আমরাও গুলি শুরু করব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীর নিহত হওয়ার বিষয়ে যাচাই করেছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সেখান থেকে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়েছে। তবে বিবিসি পারসিয়ান জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জনগণকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে সমাবেশ করার ছবি প্রকাশ করেছে ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন(আইবিসি)। এই সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের হামিদান ও ইলামসহ কয়েকটি শহরে এই সরকারপন্থি মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সম্প্রতি ইলাম ও হামিদান ছিল সেই শহরগুলোর মধ্যে যেখানে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করছিল। অন্যান্য শহরের তুলনায় ভিন্নভাবে সরকারের পক্ষে এই মিছিল আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আহ্বানে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।

সকাল থেকে ইরানের বিভিন্ন রেডিও এবং টেলিভিশনে নাগরিকদের এসব সমাবেশ বা মিছিলে অংশ নিতে আহ্বান করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট, সংসদের স্পিকার এবং বিচার বিভাগের প্রধান ছাড়াও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাতি হাসান খামেনিসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনগণকে এই মিছিলে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এক বিবৃতিতে প্রিন্স রেজা পাহলভি বলেছেন, ‘খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাবে।’