পুরুষ ময়ূরদের শরীরে চোখধাঁধানো রংবেরংয়ের পেখম থাকে। আর নারী ময়ূর দেখতে খুবই সাধারণ। এদের শরীরে লম্বা পেখম নেই, আবার পালকের রংও অনেকটা কালচে বা ধূসর প্রকৃতির। ময়ূর ও ময়ূরী পাশাপাশি থাকলে মনে হয়, যেন তাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। কিন্তু দেখতে খুব সাধারণ হলেও পুরুষদের জন্য তারা খুবই মূল্যবান। কারণ, তাদের মন জয় করা অতটাও সহজ নয়। প্রজননের সময় এলে পুরুষরা নারীদের আশপাশে ঘুরঘুর করে। এক ধরনের মৃদু শব্দের মাধ্যমে নিজেদের প্রণয় অনুভূতির জানান দেয়। দৃষ্টি আর্কষণ করতে ৬-৭ ফুট লম্বা বিশাল পেখম মেলে ধরে। অতঃপর বিশেষ ভঙ্গিমায় নৃত্য শুরু করে। পেখমগুলো কিন্তু পুরুষদের অস্তিত্বের জন্য খুব বেশি উপকারী না। বরং কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করে। কিন্তু লম্বা পালকগুলোকে এরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে। এরা আবার উড়তেও পারে। যদিও পায়রা, ঈগলের মতো খুব বেশি দূর যেতে পারে না। এরা রাতে গাছে কাটাতে পছন্দ করে। মা ময়ূরগুলো যথেষ্ট সামাজিক। আপনি এদের বাসায় পুষতে পারবেন। কিন্তু একবার এর বাচ্চা বা ডিমের দিকে কুনজর দিলে, আপনার চোখ খুলে নিয়ে আসতেও দ্বিধাবোধ করবে না ওরা! দুঃখের বিষয় হলো এ প্রজাতি এখন হুমকির মুখে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে ময়ূর শিকার হচ্ছে। হয় পোষার উদ্দেশ্যে নয়তো মাংসের জন্য। অথবা এদের সুন্দর পালকগুলোর জন্য। এভাবেই ১০-২৫ বছরের আয়ু নিয়ে পৃথিবীতে রেখে যায় জীবনের পসরা।