বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ইস্যুতে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ 'তিনটি আশঙ্কা'র কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবিও একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ একটি যোগাযোগের অংশ ওই চিঠি।
চিঠিটি মূলত একটি ইমেইল, যেটি আইসিসির সিকিউরিটি ম্যানেজার বা নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাকে। মেইলটি পাঠানো হয়েছে ৮ই জানুয়ারি।
ই-মেইলের শুরুতে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে বিসিবির দাবি এবং মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর চারটি বিষয়ে আলাদা করে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ঝুঁকির মূল্যায়ন করা হয়েছে।
মোস্তাফিজ ইস্যু—
গেলো ডিসেম্বরেই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি নিয়ে পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়। তাতে উঠে আসে, অন্যান্য দলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার।
প্রাথমিক মূল্যায়নের পর আরেক দফায় বাংলাদেশ দলের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়; তাতেও ওঠে আসে বাংলাদেশ দলের জন্য মাঝারি মাত্রার ঝুঁকি রয়েছে।
আর এর সাথে যোগ হয়েছে মোস্তাফিজের ইস্যু। বাংলাদেশ দলে তার উপস্থিতি সমস্যার কারণ হতে পারে, যদি 'ধর্মীয় উগ্রপন্থার' বিষয় আসে।
বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ইস্যু—
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ, কলকাতায় তিনটি এবং মুম্বাইয়ে একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লিটন দাসদের।
ম্যাচের সময় ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ঝুঁকি 'মিডিয়াম-লো' বা মাঝারি থেকে কম হিসেবে মেইলে উল্লেখ করা হয়।
সমর্থকদের নিরাপত্তা ইস্যু—
ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ইতিহাস ও নিশ্চয়তার ভিত্তিতে মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোনো দল কলকাতা বা মুম্বাইয়ে বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হবে বা হঠাৎ তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তবে এই দুই জায়গায় বাংলাদেশি সমর্থকদের যারা দলের জার্সি পরে বা ছোট গ্রুপ হয়ে স্টেডিয়ামে যাবেন, তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চপর্যায়ের।
পাশাপাশি, বিশ্বকাপ আসর ঘিরে যদি কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটে তাহলে তা আশেপাশের বড় এলাকাজুড়ে সহিংসতা ও বিক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যু—
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথাও ওঠে আসে মেইলে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো অঞ্চলে 'শর্ট টু মিডিয়াম টার্মে' প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এই উত্তেজনা খেলার ভেন্যু বা খেলোয়াড়দের প্রতি সহিংসতায় পরিণত হবে না বলে উঠে এসেছে ঝুঁকি মূল্যায়নে। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি এই ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার।
মেইলের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন দুই বোর্ডের (বিসিবি ও বিসিসিআই) দুইজন স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকের কাছে পর্যালোচনার জন্য রয়েছে। আর এই বিষয়ে বিসিবির মূল্যায়ন ও মন্তব্যকে স্বাগত জানানো হবে, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঝুঁকি বা উদ্বেগ থাকলে তা যেন সমন্বিতভাবে নিরসন করা যায়।