টেলিগ্রাম গ্রুপভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের অভিযোগ তদন্তে নেমে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার সিম, মোবাইল ও ভিওআইপি গেটওয়েসহ একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালিয়ে পাঁচ বিদেশি নাগরিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাইবার টিম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চায়নিজ নাগরিক চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাকিয়ার, ওয়েন জিয়ান কিউ ও হুয়াং ঝেং জিয়াং। এ ছাড়া বাংলাদেশি মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবি সাইবার উত্তরের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো অধিক মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো নিত্যপণ্য কম দামে দেওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত।
ডিসি হাসান বলেন, আমরা এ মালামালগুলো তাদের বাসা থেকে উদ্ধার করেছি। তাদের যে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে, যা কিছুই উদ্ধার করেছে সবই চায়না সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশিরা চীনা প্রতারক নাগরিকদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা চক্রের মধ্যে অনেক লোক কাজ করে। কেউ একজন বিদেশি নাগরিক তো আর ফোনে বাংলায় কথা বলবেন না। আমাদের কালচারও বুঝবেন না। এজন্য দেশি-বিদেশি সবাই মিলেই আসলে এ কাজটা করেন।
বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এতগুলো সিম কীভাবে কালেক্ট করা হয়েছে জানতে চাইলে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, এটা আশ্চর্যেও বিষয়। এ সিমের উৎসস্থলে যাওয়া হবে। কীভাবে, কার মাধ্যমে এসেছে এতগুলা সিম। তদন্তের মধ্যে সবকিছু স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দুই থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। গতকাল তাদের আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।