ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধায় ভারতীয় কোম্পানি আদানির সঙ্গে বাংলাদেশের যে অসম বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়েছে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) যুব সংসদ। দেশবিরোধী এই চুক্তি বাতিল ও আদানির বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি চেয়েছে সংগঠনটি।
এর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সংযুক্ত করতে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্যাব যুব সংসদের সদস্যরা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে গত নভেম্বর মাসে ক্যাবের উদ্যোগে প্রথম জ্বালানি যুব সংসদীয় অধিবেশনে ক্যাব যুব সংসদ গঠিত হয়।
জ্বালানি খাত সংস্কারের যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন রহিতকরণ সংক্রান্ত ক্যাবের রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং এই আইনের আওতায় হওয়া সব চুক্তি ও লাইসেনস বাতিল করা। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ¦ালানি খাতকে আবার ‘সেবা খাত’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ খরচভিত্তিক নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি আগামী সরকারের মেয়াদে কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমাতে হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ছোট শিল্প হিসেবে এই বিদ্যুৎ (সৌরবিদ্যুৎ) উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি পাঁচ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।