এপস্টাইন কাণ্ড

মার্কিন কংগ্রেসের তলব প্রত্যাখ্যান করলেন ক্লিনটন দম্পতি

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন যৌন অপরাধী ও ধনকুবের জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সমন বা তলব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

কংগ্রেসের কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কোমারকে উদ্দেশ্য করে লেখা ওই চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি অভিযোগ করেন, এই তদন্তে কোমার রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। তারা দাবি করেন, কোমার তাদের মতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং একইসাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো তার মিত্রদের আড়াল করছেন।

ক্লিনটন দম্পতি এই সমনকে ‘আইনগতভাবে অবৈধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেন, জেমস কোমারের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটি আক্ষরিক অর্থেই তাদের ‘কারাবাস নিশ্চিত করার জন্য’ কাজ করছে। চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা জোরালোভাবে নিজেদের আত্মরক্ষা করব।’

তাদের দাবি, এপস্টাইন সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সব তথ্য তারা আগেই কমিটিকে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সশরীরে হাজির হওয়ার সমন কেবল তাদের ‘হয়রানি ও অপদস্থ’ করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, ‘এপস্টাইনের অপরাধগুলো ছিল ভয়াবহ, সে কারণেই আমাদের কাছে থাকা সামান্য তথ্যগুলো দিয়ে আমরা তদন্তে সহায়তা করতে চেয়েছি।’

ক্লিনটনদের এই প্রত্যাখানের পর জেমস কোমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই তিনি ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননা’র (কনটেম্পট অব কংগ্রেস) প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে কোমার এটাও যোগ করেন যে, ‘কেউ ক্লিনটনদের কোনো অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করছে না; আমাদের শুধু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন আছে।’

উল্লেখ্য, কংগ্রেস অবমাননার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় হাউসের পূর্ণ ভোটের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যদি সেখানে প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

২০১৯ সালে যৌন পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালীন কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফরি এপস্টাইন। এরপর থেকেই তার বন্ধু তালিকায় থাকা বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে নানা জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়। বিল ক্লিনটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়ের সাথেই এপস্টাইনের বন্ধুত্বের প্রমাণ নথিপত্রে রয়েছে। তবে তারা দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে পাচারের বিষয়ে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছেন।

গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস হয় যার অধীনে এপস্টাইন সংক্রান্ত সব নথি বিচার বিভাগকে প্রকাশ করতে বলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত সংস্থাটি নথিপত্রের সামান্য একটি অংশ মাত্র প্রকাশ করেছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর থেকে নজর সরাতে বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লিনটন সংক্রান্ত নথিগুলো আগে প্রকাশ করছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না এবং রিপাবলিকান টমাস ম্যাসি এক চিঠিতে বিচারকের কাছে এই নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া তদারকি করতে একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন।