শরীয়তপুর

বাইরে থেকে ভাড়া নেওয়ায় আটকে দেয় ‘অ্যাম্বুলেন্স’, পথে মৃত্যু

শরীয়তপুরে রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা যাওয়ার পথে দুই স্থানে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় চিকিৎসা না পেয়ে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। 

এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহত জমশেদের নাতি জুবায়ের হোসেন রুমান ঢালী বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলার এক আসামি সুমন খানকে শরীয়তপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খান (৩৮), চালক সজিব (২৮), পারভেজ (২৬) ও হান্নান (২৫)।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অসুস্থ জমশেদ আলী ঢালীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে দুপুরে ঢাকায় নেওয়ার জন্য স্বজনরা সাড়ে ৬ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। তবে রোগী তোলার পর চালক ও তার সহযোগীরা ভাড়া বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে স্বজনরা রাজি না হয়ে অন্য অ্যাম্বুলেন্সে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে স্বজনরা অটোরিকশায় করে শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ঢাকাগামী আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রওনা দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান, সজিব খান, পারভেজ ও হান্নানসহ ৮-১০ জন ওই অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে চালককে মারধর করে চাবি ছিনিয়ে নেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে থাকে। পরে রোগীকে ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় জমশেদ আলীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সদস্যদের সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন। সভায় ভবিষ্যতে রোগীর অ্যাম্বুলেন্স আটকানো, বাড়তি ভাড়া আদায়সহ কোনো অনৈতিক কাজ না করার অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স মালিক পক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং লিখিত মুচলেকা দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলোর বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন কতটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহন করছে, তার হিসাব সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’