‘অবদান রাখতে না পারায়’ পে কমিশন ছাড়লেন মাকছুদুর রহমান

‘অবদান রাখতে না পারায়’ জাতীয় পে কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ ছেড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগের কথা জানান। 

মাকছুদুর রহমান বলেন, গত ১৮ আগস্ট একটি সভায় অর্থ উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশ এবং বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনায় দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়নে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে তিনটি নির্দিষ্ট কার্যপরিধির আওতায় সুপারিশমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সাব কমিটি বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত মোট ৩৩টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে এবং ধাপে ধাপে এগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। মাকছুদুর রহমান জানান, ঢাবির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাব কমিটির প্রতিবেদনটি পৃথকভাবে এজেন্ডাভুক্ত করে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনার অনুরোধ করলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ কমিশনের সর্বশেষ সভায় একটি মোটামুটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ দেখার পর তার কাছে প্রতীয়মান হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কার্যকর কোনো অবদান রাখতে না পারায় তিনি কমিশন থেকে পদত্যাগ করাকেই শ্রেয় মনে করেছেন।

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান, সরকারি মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ২২ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে ২৭ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।