ফরিদপুরে বৃদ্ধার জমানো ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শিরিয়া বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে জমিয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। যেই টাকা ছিল তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই জমানো টাকা চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। পরে সেই টাকা চাইতে গেলে মারধরও করা হয়েছে ওই বৃদ্ধাকে।

এ বিষয় নিয়ে বুধবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে ছুটে যান ভুক্তভোগী। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জেলার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের মীরেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে গত ৫ বছর যাবৎ বসবাস করছেন তিনি। গত ৪-৫ দিন আগে তার ঘর থেকে জমানো টাকা চুরি হয়ে যায়। যেখানে প্রায় ৮০ হাজার টাকা জমানো ছিল। এর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন। এরপর জীবিকা হিসেবে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসার টাকা দিয়ে বিয়ে দিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে। কিন্তু গত ৬ বছর আগে বয়সের ভাড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় তার ব্যবসা।

পরে ভূমিহীন ওই নারী ডাঙ্গী ইউনিয়নের মীরেরগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামে বসবাস শুরু করেন। এরপর জীবিকার তাগিদে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ ভিক্ষা করে জমিয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। সেই টাকাগুলো নিজের চৌকির তোশকের নিচে রেখেছিলেন।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী মন্ডল নামে এক ব্যক্তি টাকাগুলো চুরি করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা এবং গুচ্ছগ্রামের কোমেলা বেগম নামে এক নারীর ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। এছাড়া তিনি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি চলবার-ফিরবার পারি না। এই টাকা ভাইঙ্গ্যা-চুইর‌্যা (খরচ) কিছু কইরা খাইতাম, ওষধ কিন্যা খাইতাম। এই টাকা কডা হারানোর পরে আমার সর্বশরীর ভাইঙ্গ্যা গেছে। আমি একদিনে এই টাকা জড়ো করি নাই, ৫-৬ বছর ধইর‌্যা জড়ো করছি। হাইট্যা হাইট্যা মানুষের কাছে হাত পাইত্যা টাকাগুলো জমাইছি, ভাবছি আরও কিছু টাকা জমাইয়্যা একটা কাজ করব। আমার সেই টাকাগুলো নিয়ে গ্যাছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওরা (মাদকসেবীরা) আমার ঘরে ঢুইক্যা অনেক ফাজলামিও করত। কোনোদিনও ভাবি নাই-ওরাই আমার টাকা চুরি করবে। আমি টাকা চাবার (চাইতে) গেলে আমারে অনেক মারছে। আমারে মাইর‌্যা ফেলানোর ভয় দেখাচ্ছে। আমার টাকাগুলো ফেরত আইন্যা দেন।’

বিষয়টি নিয়ে মন্ডল সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়া থানায় এসে অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।