স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এনসিপি নেতার পাল্টাপাল্টি মামলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের দৌরাত্ম্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে এসে গত বছরের ১২ নভেম্বর হামলার শিকার হয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

এতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক ও সদস্য মোজাম্মেল হক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিগত তিন মাস ধরে প্রশাসন, সুশীল ও  বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের লোকজন দুপক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করলেও কোনও সুরাহা মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে এনসিপি নেতা
মোজাম্মেল হককে প্রধান আসামি করে ৩ জনের নামে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজ করা হয়।

অন্যদিকে গত ১৫ জানুয়ারি এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড শাকিলকে প্রধান আসামি করা হয়। দুটি মামলা (আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী) দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়েছে। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক ও সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পায় না, পায় শুধু হয়রানি আর শোষণ। রোগীদের জোর করে দালালের মাধ্যমে নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওষুধ ও দামি ইনজেকশন বাইরে বিক্রি করা হয়। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার নাম করে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা কি এমন বাংলাদেশই চেয়েছিলাম? হাসপাতালের দালাল চক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে আমার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। আজও আমি চিকিৎসাধীন, হাতে অপারেশন করে রড বসানো, এখনও প্লাস্টার খুলেনি। আমার একাধিক সহযোদ্ধাকে গুরুতর জখম করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ১ নম্বর আসামি করে অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য ছিল- মামলা থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাম বাদ দিতে হবে। কিন্তু উল্টো ভোক্তভোগী হয়েও আমাকে ১ নম্বর আসামি করে মামলা হয়েছে। তাহলে কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে লাঠির আঘাত, হাত ভাঙা ও মিথ্যা মামলা উপহার হিসেবে পাওয়া যায়? কিন্তু আমি ভয় পাই না, আমরা আপস করব না এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত থামব না।

কোন অভিযোগ এনে এনসিপি নেতাদের নামে মামলা করা হয়েছে? এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। কল কেটে দেন আরএমও সুমাইয়া হোসেন লিয়াও।

তবে হাসপাতালের একাধিক সূত্রে ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি সাধন। হাসপাতালের ভেতরে বল প্রয়োগ করে সন্ত্রাসী হামলা, আধিপত্য বিস্তার ও রোগীদের সেবা প্রদানে বিঘ্নতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এই মামলাটি দায়ের করেন।

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় দুটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।