নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজ সেবক ও ঢাকার নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১৫ সালের আজকের এই দিনে ১৯১৫ সালের আজকের এই দিনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহর বাল্যকাল থেকেই আভিজাত্যের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশতে শুরু করেন। নবাব স্যার সলিমুল্লাহর পড়াশোনা মূলত গৃহকেন্দ্রিক এবং ঐতিহ্যবাহী ছিল। যেখানে তিনি আরবি, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি ভাষা শিখেছিলেন। তিনি কেবল নিজে শিক্ষিতই ছিলেন না বরং শিক্ষা প্রসারেও বিশাল ভূমিকা রাখেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বুয়েট) স্থাপনে অনুদান দিয়েছেন, যা পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষা ও রাজনৈতিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যদিও তিনি জীবদ্দশায় এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারেননি। প্রচলিত আছে যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জমি দান করেছেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি শ্রুতি বা মিথ। দান করার মতো জমি নবাব পরিবারের ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি খাসজমিতে। তার বাবা নবাব খাজা আহসানউল্লাহ ও দাদা নবাব খাজা আবদুল গনি।

১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসময় আসামের উৎপাদিত চা ও অন্যান্য পণ্য বিদেশে রপ্তানির ব্যাপারে পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে কলকাতার বদলে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের চিন্তা করে বৃটিশরা। একই সঙ্গে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনাও চলতে থাকে। বৃটিশদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নবাবের আবেদন যুক্ত হয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বাংলা বিভাজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও ১৯০৫ সালে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করা হল। বঙ্গ ভঙ্গ নিয়ে বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জুন ঢাকার আহসান মঞ্জিলে এই নবাব জন্মগ্রহণ করেন।